পিরোজপুর : স্থানীয় পর্যায়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ এবং গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করতে পিরোজপুরে দিনব্যাপী গ্রাম আদালত বিষয়ক রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে দুইটি ব্যাচে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ-৩য় পর্যায় প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত প্রশিক্ষণে জেলার সাত উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি), থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), যুব উন্নয়ন, মহিলা বিষয়ক ও সমাজসেবা বিভাগের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
প্রশিক্ষণে কোর্স কো-অর্ডিনেটর ও প্রধান রিসোর্স পার্সন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মাহমুদুর রহমান মামুন। রিসোর্স পার্সন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জিয়াউর রহমান, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আব্দুল হাই মল্লিক এবং জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাজমুন নাহার।
প্রশিক্ষণ সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ-৩য় পর্যায় প্রকল্পের জেলা ব্যবস্থাপক মৌসুমী আক্তার মৌ।
সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণে গ্রাম আদালত সম্পর্কিত আইন, বিধি, কার্যপদ্ধতি, মাঠপর্যায়ের চ্যালেঞ্জ এবং করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এছাড়া গ্রাম আদালত বিষয়ে নির্মিত ২১টি শিক্ষামূলক ভিডিও ক্লিপ প্রদর্শনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের সামনে বিচার প্রক্রিয়া, স্থানীয় বিরোধ নিষ্পত্তি এবং গ্রাম আদালতের কার্যকর বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মাহমুদুর রহমান মামুন বলেন, “সালিশের মাধ্যমে বিচার নয়, গ্রাম আদালতের মাধ্যমেই বিচার চাই।” তিনি বলেন, গ্রাম আদালত স্থানীয় জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত, সহজলভ্য ও স্বল্প ব্যয়ের বিচারসেবা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী ও জনবান্ধব করতে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা গ্রাম আদালতের কার্যক্রম বাস্তবায়নে নিজেদের ভূমিকা আরও কার্যকরভাবে পালনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণ স্থানীয় পর্যায়ে গ্রাম আদালতের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে এবং সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি সহজতর করবে।

















