নিজস্ব প্রতিবেদক : পিরোজপুর জেলার এক গৌরবময় কৃতি সন্তান, বাংলাদেশ পুলিশের ২৪তম বিসিএস ব্যাচের অত্যন্ত সৎ, দক্ষ ও সাহসী কর্মকর্তা মোঃ নাজিমুল হক বর্তমানে চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। দেশ ও জনগণের সেবায় অনন্য অবদানের জন্য তিনি আজ শুধু পিরোজপুরবাসীরই নন, বরং গোটা দেশের মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছেন।
জানাযায়, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি জাতীয়তাবাদী আদর্শের একনিষ্ঠ ও সক্রিয় কর্মী ছিলেন। বিগত ফ্যাসিবাদের দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে তিনি সর্বদা জনগণের অধিকার আদায়ের পক্ষে এক অনন্য ভূমিকা পালন করেন। এই দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্রান্তিকালে তিনি কেবল মেধা ও শ্রম দিয়েই অবদান রাখেননি, বরং নিজের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে আন্দোলনকে অর্থনৈতিকভাবেও প্রতিনিয়ত বেগবান করতে সহযোগিতা করেছেন।
একজন খাঁটি বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী ও দেশপ্রেমিক পুলিশ অফিসার হওয়ার কারণে বিগত ফ্যাসিবাদের আমলে কর্মজীবনে তাকে পোহাতে হয়েছে অবর্ণনীয় নির্যাতন ও তীব্র বৈষম্য। অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করায় এবং নিজের আদর্শের পথ থেকে বিচ্যুত না হওয়ায় তাকে দীর্ঘ সময় ওএসডি (OSD) করে রাখা হয়েছিল। এমনকি তাকে পুলিশ লাইন্সে ইনসার্ভিস হিসেবে ফেলে রেখে ক্যারিয়ার ধ্বংস করার নানামুখী অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল। কিন্তু কোনো জুলুম-নিপীড়নই তাঁর দেশপ্রেম ও সত্যের প্রতি অবিচল নিষ্ঠাকে দমাতে পারেনি।
অবশেষে ৫ই আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর স্বৈরাচারের পতনের মধ্য দিয়ে তিনি সগৌরবে তাঁর যোগ্য নিজ কর্মক্ষেত্রে ফিরে আসেন। বর্তমানে চট্টগ্রাম রেঞ্জে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তাঁর দূরদর্শী ও সাহসী নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কুখ্যাত ও দুর্গম “জঙ্গল সলিমপুর”-এ সন্ত্রাসীদের দীর্ঘদিনের অভয়ারণ্য ও অবৈধ অস্ত্রের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিতে তিনি যে যুগান্তকারী যৌথ অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছেন, তা দেশজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
তাঁর এই অদম্য কর্মদক্ষতা, বীরত্ব ও সততার সুনাম আজ সমগ্র বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। পিরোজপুর জেলার সাধারণ মানুষ তাদের এই কৃতি সন্তানকে নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত ও আনন্দিত।
এলাকাবাসী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রত্যাশা, মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে তিনি যেন তাঁর অসাধারণ মেধা, অক্লান্ত শ্রম, সততা ও অতুলনীয় সাহসিকতার মাধ্যমে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও সুদৃঢ় করতে পারেন এবং দেশ ও জনগণের সেবায় সফলতার সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছাতে পারেন।

















