প্রেস টাইমস্‌ ২৪ । Press Times 24

আজ- সোমবার, ৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৮ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

আজ- ৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

অদম্য এক নারী : রাজপথ থেকে জেল-জুলুম, বেগম খালেদা জিয়ার এক লড়াকু সৈনিকের গল্প

অদম্য এক নারী : রাজপথ থেকে জেল-জুলুম, বেগম খালেদা জিয়ার এক লড়াকু সৈনিকের গল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক : শৈশবে বাবার আনা একটি ছবি থেকে যে ভালোবাসার জন্ম, সেই ভালোবাসা আজ এক মহীরুহে পরিণত হয়েছে। শ্রমিক দল করা বাবার হাত ধরে ঘরে আসা বেগম খালেদা জিয়ার ছবিতে কলম দিয়ে আঁকাআঁকি করে বকুনি খাওয়া সেই ছোট্ট মেয়েটি আজ নিজেই এক দুঃসাহসী যোদ্ধা। মা খালেদা জিয়ার প্রতি অগাধ ভালোবাসা আর ত্যাগের এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন তিনি।
সংগ্রামী দাম্পত্য ও রাজপথের লড়াই বিয়ের প্রথম রাত থেকেই শুরু হয়েছিল তাঁর সংগ্রামী জীবন। স্বামীর রাজনৈতিক আদর্শের কারণে ঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে। রাতের অন্ধকারে পুলিশের কড়া নাড়া, আওয়ামী লীগের হামলা আর প্রতিনিয়ত হয়রানি ছিল তাঁর নিত্যদিনের সঙ্গী। কিন্তু স্বামীর দেশপ্রেম আর খালেদা জিয়ার প্রতি অবিচল আস্থা দেখে তিনি দমে যাননি, বরং গর্বিত হয়েছেন।

গর্ভবতী অবস্থায় রাজপথে আন্দোলন করেছেন। ২০১৮ সালে যখন দেশনেত্রীকে অন্যায়ভাবে কারারুদ্ধ করা হয়, তখন এই লড়াকু নারী ঘরে বসে থাকতে পারেননি। অন্তঃসত্ত্বা ও অসুস্থ শরীর নিয়েও তিনি রাজপথে নেমেছেন মায়ের মুক্তির মিছিলে। একদিকে পুলিশের টিয়ারশেল আর লাঠিচার্জ, অন্যদিকে পেটে অনাগত সন্তান সব প্রতিকূলতা তুচ্ছ করে তিনি লড়াই করেছেন গণতন্ত্রের জন্য।

অন্ধকার রাত ও প্রতীক্ষার প্রহর ডামি নির্বাচনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় তাঁর স্বামী যখন ঘরছাড়া, তখন দুই শিশু সন্তান নিয়ে তিনি বাসায় একা। রাত ২টা-৩টায় পুলিশের বুটের শব্দে বাচ্চাদের কান্নার শব্দে বাতাস ভারী হয়ে উঠত। স্বামী বেঁচে আছেন কি না, না খেয়ে কাটনো দিনগুলো আর দুশ্চিন্তায় নির্ঘুম রাত সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়লে আজও তিনি শিউরে ওঠেন।

খালেদা জিয়ার নামে সন্তানের নামকরণ করেছেন। মায়ের প্রতি ভালোবাসার চিহ্ন হিসেবে তিনি তাঁর অনাগত সন্তানের নাম রেখেছেন খালেদা খানম পুতুল। এটি কেবল একটি নাম নয়, এটি একটি আদর্শের উত্তরাধিকার। তাঁর আজীবনের স্বপ্ন ছিল প্রিয় নেত্রীর সামনে দাঁড়িয়ে নিজের এই সংগ্রামের কথাগুলো বলবেন। কিন্তু নিয়তির অমোঘ বিধানে দেশনেত্রী আজ মহান আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে চলে গেছেন।

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নেই, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া কোটি কোটি ‘পুতুল’ আর লড়াকু সৈনিকরা আজ বাংলাদেশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। আপনার এই আত্মত্যাগ আর সংগ্রাম বৃথা যাবে না। মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, তিনি যেন প্রিয় নেত্রীকে জান্নাতুন ফেরদৌস নসিব করেন আমিন।

স্বাম্নী আক্তার রশ্মি,
সাবেক ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক
পিরোজপুর জেলা ছাত্রদল,
আহবায়ক ডাঃ জুবাইদা রহমান পরিষদ
পিরোজপুর জেলা।

এইরকম আরও খবর

সর্বশেষ খবর