• সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১, ০১:০২ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
শ্রেষ্ঠ উপজেলা চেয়ারম্যান ভান্ডারিয়ার মিরাজুল ইসলাম পিরোজপুরে যুদ্ধাপরাধী সাঈদীর মামলার স্বাক্ষী’র উপর হামলা পিরোজপুরে কেন্দ্রিয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক একরামুল হাসান মিন্টু’র মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল রূপালী ব্যাংক লিমিটেড এর বঙ্গবন্ধু পরিষদ এর পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ পিরোজপুর সদর উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে কর্মী সভা সম্পন্ন করেছে সদর উপজেলা ছাত্রদল পিরোজপুর জেলা দাবা লীগের পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠিত পিরোজপুর অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড মেইন রোড শাখা কর্তৃক “প্রবাসীর ঘরে ফেরা ঋণ বিতরণ” বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ভিত্তিক বই পড়া প্রতিযোগীতা এবং পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত পিরোজপুর জেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে শিশুদের মৌলিক শিক্ষার উদ্দেশ্যে ” শেখ রাসেল পাঠশালা “উদ্বোধন পিরোজপুর জেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সম্প্রীতি সমাবেশ ও শান্তি শোভাযাত্রা

পিরোজপুরে সংরক্ষণের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে প্রাচীন মসজিদ

admin / ২৮৭ জন দেখেছেন
প্রকাশের সময়ঃ বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২০
পিরোজপুরে সংরক্ষণের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে প্রাচীন মসজিদ

পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে এখনো প্রাচীন ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে তিন গম্বুজ বিশিষ্ট দুটি মসজিদ। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে হারিয়েছে তার নিজস্ব চেহারা। ইতোমধ্যে বিকৃত হয়েছে তার আকার-আকৃতি। উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের উত্তর বালিপাড়া গ্রামে ফারাজিয়া পাকা মসজিদ ও গাবগাছিয়া সিকদার বাড়ি জামে মসজিদ দুটি কত সালে নির্মাণ করা হয়েছে তার সঠিক ইতিহাস স্থানীয় কারো জানা নেই।
জানা যায়, ইন্দুরকানীতে একই রকম চারটি মসজিদ ছিল। দুটি পাড়েরহাট ইউনিয়নে। সে দুটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আর পত্তাশী ইউনিয়নে রয়েছে একটি। অপরটি বালিপাড়ায়। মসজিদগুলো বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদের নির্মাণ সামগ্রীর মতোই একই আদলে চুন, শুড়কি ও টালি দ্বারা তৈরি করা হয়েছে। মসজিদের মাঝখানে তিনটি বড় ও চার কোণায় চারটি ছোট গম্বুজ রয়েছে। মাঝের গম্বুজ তিনটির উপরে তিনটি মূল্যবান ধাতব কলস ছিল। বালিপাড়ার মসজিদটি থেকে ১৯৪২ সালে দুটি কলস চুরি হয়ে যায়। পরবর্তীতে বছর পাঁচেক আগে অপর কলসটিও চুরি হয়েছে গেছে। মসজিদগুলোর মূল ভবনের সাথে আলাদা বারান্দা নির্মাণ করা হয়েছে। আবার বিভিন্ন সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তা সংস্কার করা হয়নি। দেয়ালে দেয়া হয়েছে সিমেন্টের আস্তরণ। করা হয়েছে রঙয়ের পরিবর্তন। তাই মসজিদগুলো তার আসল চেহারা হারিয়ে ফেলেছে।
বালিপাড়া ফারাজিয়া পাকা জামে মসজিদটির ইমাম মাওলানা আবু বক্কার সরদার (৭০)। তিনি প্রায় ৫০ বছর ধরে এই মসজিদের ইমামতি করছেন। তার বাব এবং দাদাও এই মসজিদের ইমাম ছিলেন। মাওলানা আবু বক্কার জানান, খাজা খানজাহান আলী (রহ.) তিনি যখন দক্ষিণ-পশ্চিমবঙ্গে প্রথম ইসলাম প্রচার করতে আসেন, সে সময় এই মসজিদগুলো নির্মাণ করা হয়। তিনি বালিপাড়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন অঞ্চলে ৩৬০টি মসজিদ নির্মাণ করেন। একই সময় সুপেয় পানির জন্য দীঘিও খনন করা হয়। দীঘিগুলো এখন পুকুরের আকৃতিতে রূপ নিয়েছে। অনেক স্থানের দীঘি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এই অঞ্চলের সাথেই ছিল সুন্দরবন। জঙ্গল কেটে এখানে মানুষের বসবাস শুরু হয়। তখন এই অঞ্চলের শাসনকার্য পরিচালনা করতেন হিন্দু রাজারা। তাই এলাকাটিও ছিল হিন্দু অধ্যুষিত। জিয়ানগরের পাড়েরহাটের জমিদার সূর্য প্রসন্ন বাজপাইয়ের পূর্বপুরুষেরা সে সময় জিয়ানগরসহ এর আশপাশের এলাকার রাজত্ব করতেন। একসময় বালিপাড়ায় থাকতেন রমনাথ দত্ত চৌধুরীর পূর্বপুরুষেরা। এই এলাকাটি তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন ছিল। আবার কালজয়ী প্রেম কাহিনীর মধুমালা ও মদন কুমারের বাড়ি ও দীঘি বালিপাড়ায় বলে জানা যায়। বালিপাড়ায় খোলপটুয়া গ্রামে প্রাচীন আমলের প্রাসাদের ধংসাবশেষ তার সাক্ষী বহন করছে।
কঁচা নদীর তীরে ফেরাজ উদ্দিন নামের একজন সম্ভ্রান্ত মুসলিম ব্যক্তি প্রায় ৫৫০ বছর পূর্বে উত্তর বালিপাড়া গ্রামে ফারাজিয়া পাকা মসজিদটির দেখভাল করতেন। তিনি খাজা খান জাহান (রহ.) এর অনুসারী ছিলেন। এই মসজিদটিতে ১০ মহরম আশুরা পালন করা হতো। এখানে ঢাক বাজিয়ে সিন্নি রান্না করে ভক্তদের মাঝে বিতরণ করা হতো। মসজিদ এলাকায় একটি কবর রয়েছে। করবটি ফেরাজ উদ্দিন ও তার স্ত্রীর বলে ধারণা করা হয়। কবরের বাইরের দেয়ালে দুটি ঘোড়ার ছবি রয়েছে। যা থেকে অনুমান করা হয়, তিনি শিয়া মতাদর্শের ছিলেন।
মসজিদটির মোয়াজ্জিন মোকসেদ মিরা জানান, এখানে বড় একটি দীঘি ছিল ওই সময়। বর্তমানে সেখানে ছোট একটি পুকুর রয়েছে। ওই দীঘিতে সোনার থালাবাসন ভেসে উঠত। মূল দীঘি কেউ খনন করতে পারেনি। তাই দীঘির এক প্রান্ত কেটে পুকুরের মতো করা হয়েছে।
ইন্দুরকানী উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী বলেন, এই প্রাচীন মসজিদগুলো এই অঞ্চলের ইসলামের ইতিহাসের সাক্ষী। তাই জরুরি ভিত্তিতে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে স্থানীয়দের ভূমিকাও বেশ জরুরি, পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দফতরকেও এগিয়ে আসতে হবে।


একই ধরনের আরও খবর
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!