• সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
পিরোজপুরে যুদ্ধাপরাধী সাঈদীর মামলার স্বাক্ষী’র উপর হামলা পিরোজপুরে কেন্দ্রিয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক একরামুল হাসান মিন্টু’র মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল রূপালী ব্যাংক লিমিটেড এর বঙ্গবন্ধু পরিষদ এর পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ পিরোজপুর সদর উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে কর্মী সভা সম্পন্ন করেছে সদর উপজেলা ছাত্রদল পিরোজপুর জেলা দাবা লীগের পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠিত পিরোজপুর অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড মেইন রোড শাখা কর্তৃক “প্রবাসীর ঘরে ফেরা ঋণ বিতরণ” বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ভিত্তিক বই পড়া প্রতিযোগীতা এবং পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত পিরোজপুর জেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে শিশুদের মৌলিক শিক্ষার উদ্দেশ্যে ” শেখ রাসেল পাঠশালা “উদ্বোধন পিরোজপুর জেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সম্প্রীতি সমাবেশ ও শান্তি শোভাযাত্রা জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন উপলক্ষে সুশাসন প্রতিষ্ঠার নিমিত্তে অংশীজনের অংশ গ্রহন সভা অনুষ্ঠিত

বিশুদ্ধ পানি আর টয়লেট সংকটে মাঝের চরের মানুষ

admin / ২৪৯ জন দেখেছেন
প্রকাশের সময়ঃ মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২০

আম্পানের তান্ডবে বিশুদ্ধ পানি আর টয়লেট সংকটে মাঝের চরের মানুষ। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বেতমোর-রাজপাড়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে মাঝের চর। চরের মানুষের জীবন জীবিকা চলে কৃষি আর নদীতে মাছ ধরে। এ চরটি উত্তর দক্ষিন মুখা। মূল ভূখন্ড থেকে বলেশ্বর নদী বেষ্ঠিত এ চরে ট্রলারে যেতে ৭থেকে ১০ মিনিট সময় লাগে।

বেতমোর- রাজপাড়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শহীদুল ইসলামের কাছ থেকে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি বলেন, প্রায় ৭শ একর জমির এ চরে লোকজন বসতি গেড়েছে ১৯৬০ সাল থেকে। সরকার ১৯৬৫ সেটেলমেন্টের মাধ্যমে লোকজনকে জমি দিয়েছে। চরে বর্তমানে বসবাস করছে ২শত ২০ পরিবার।

কথা হয় চরের বাসিন্দা ৪৪ বছর বয়সী আলম জমাদ্দারের সাথে। তিন পুরুষের বসতি এ চড়ে তাদের। তিনি বলেন, আমার বাবায় আফুড়(হামাগুড়ি)দেয়া অবস্থায় দাদায় আমার বাবাকে নিয়ে মাঝের চরে বসতি গেড়েছে।

চরের অবস্থা কেমন জানতে চাইলে নিশ্বাস ছেড়ে তিনি বলেন, অবস্থা ভালোনা। নদীর পাশ থেকে যারা বেড়ী বাঁধের মধ্যে ছিলাম তারা ঝড়ের সময় সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিয়েছিলাম। আম্পানে দক্ষিন পশ্চিম অংশের বাঁধ ভাইঙ্গা যে চোডে পানি উঠছে তাতে ঘরের পোতা (ভিটি) সব খইচ্চা লইয়া গ্যাছে। চরের অনেক টয়লেট,পানির ট্যাংকি ভাসাইয়া লইয়া গেছে। সাইক্লোন শেল্টারের টয়লেটের অবস্থাও বেহাল। যারা ঘরে ফিরেছেন তারা ঝোপ জঙ্গলে প্রকৃতির ডাকে সারা দেয়ার কাজটি সারেন। আলম জমাদ্দার বলেন, আমার ঘরের সাথে একটি মুদি দোকান ছিল। তাতে ৬০থেকে ৭০ হাজার টাকার মালামাল ছিল। পানির তোরে সব ভাইসা গেছে।

আলম জমাদ্দারের পর কথা হয়। চরের উত্তর অংশের বাসিন্দা জাফর আকনের সাথে। নদীতে মাছ ধরা ও সবজী চাষ তার পেশা। তিনি বলেন, ২শত শতক জমিতে মিষ্টি কুমরা , মুগডাল এবং রেখা চাষ করেছিলাম। ৭০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছিলাম। মাত্র ১৫ হাজার টাকার সবজী ঘরে নিতে পেরেছি। সব সবজী ঘরে নিতে পারলে আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা পেতাম। কিন্তুু আম্পানের থাবায় সব শেষ হয়ে গেল। জাফর আকনের মত অনেক সবজী চাষী ও মৎসজীবী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে তিনি জানান। চরে থাকা লোকজন জাল হারিয়েছে,তুফানে নৌকা ফেটেছে তাদের। জাফর আকন বলেন,পানি কাদার সাথে যুদ্ধ করে চলতে হয় আমাদের। ঝরে টয়লেট ভেসে গেছে। বিশুদ্ধ পানির সংকট প্রকট। চরের মাঝে থাকা কিছু পরিবারে আম্পানের চোট বেশী লাগেনি লাগেনি।

চরের বাসিন্দা সোয়লমানের সাথে যখন ফোনে কথা হয় তখন তিনি মাছ শিকারে বলেশ্বর নদীতে। এ সময়ে তিনি বলেন, নদীতে প্রচন্ড তুফান। কাজ না করলে খাবো কি? আম্পানের পরে অবশ্য ত্রান সহায়তা পেয়েছেন বলে জানান তিনি। এ সময় তিনি বলেন,আম্পানে চরের দক্ষিন পশ্চিম অংশের বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকেছে। আমরা দ্রুত বাঁধ মেরামতের দাবী জানাই। আমরা বর্তমানে বিশুদ্ধ পানির কষ্টে ও টয়লেট সমস্যায় আছি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শহীদুল ইসলাম জানান, উলুবাড়িয়া, নিজামিয়া ও মাঝের চর নিয়ে ৯নং ওয়ার্ড। আম্পানে মাঝের চরের অনেক পরিবারের ঘর ভেঙেগেছে। আর প্রায় ১শত৫০ পরিবারের টয়লেট ভেসে গেছে। বিশুদ্ধ পানির ড্রাম ভেসে গেছে। সিডরের পর বিভিন্ন সংস্থা থেকে এ ড্রামগুলো দেয়া হয়েছিল। এরপর তিনি বলেন,৯নং ওয়ার্ডের উলুবাড়িয়া, নিজামিয়া এলাকায় বেড়ীবাঁধের বাইরে পশ্চিম পাশে আরও ৮০ পরিবার আম্পানে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

জন স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিহির মন্ডল জানান, আম্পানের পরপরই মাঝের চর সহ এ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে। মাঝের চর সহ ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার মানুষের যাতে টয়লেট, বিশুদ্ধ পানির সমস্যা দূর হয় সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।


একই ধরনের আরও খবর
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!